স্বাস্থ্য পরামর্শ

দেশের ৫ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ বিভিন্ন ধরনের থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। সে হিসাবে দেশের ৫ কোটি মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। এদের মধ্যে ৩ কোটি মানুষই এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানেন না। তাদের বেশিরভাগই গ্রামে বসবাস করেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একজন পুরুষের বিপরীতে ১০জন নারী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত।আজ বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে বারডেম হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত সচেতনতামূলক এক সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি এই সভার আয়োজন করে। চিকিৎসকরা বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পরও নীতি-নির্ধারক, চিকিৎসা সেবাদানকারী ও চিকিৎসাগ্রহণকারী সবার মধ্যেই রোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা, উদ্যোগ ও পদক্ষেপের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এটি প্রতিরোধ সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।

চিকিৎসকরা বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি গলার সামনের দিকে প্রজাপতিসদৃশ একটি গ্রন্থি, যা ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালী পেঁচিয়ে থাকে। ছোট গ্রন্থি হলেও এর কার্যকারিতা ব্যাপক। থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন মানব পরিপাক প্রক্রিয়ায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে। ভ্রুণ অবস্থা থেকে আমৃতু থাইরয়েড হরমোনের প্রয়োজন। এ হরমোনের তারতম্যের জন্য শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, শরীর মোটা হওয়া, ক্ষয় হওয়া, মাসিকের সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, হার্টের সমস্যাসহ চোখ ভয়ংকরভাবে বড় হয়ে যেতে পারে। দেশে থাইরয়েড রোগের পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে সবধরনের থাইরয়েড সমস্যা একসঙ্গে হিসাব করলে, তা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি হবে। ভারতের অবস্থাও অনেকটা এমনই। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় ২ শতাংশ ও পুরুষদের প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড ও হরমোনের বৃদ্ধিজনিত সমস্যা) রোগে ভোগেন। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ৩ দশশিক ৯ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হারে হাইপোথাইরয়েডিজম থাকতে পারে। আরও প্রায় ৭ ভাগ নারী ও পুরুষ সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভোগেন। খুলনা বিভাগে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, ৯২৫ জন নারীর মধ্যে ২০ দশমিক ৪৩ ভাগ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। নবজাতক শিশুদেরও থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতিজনিত সমস্যা (কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম) হতে পারে। এর হার ১০ হাজার জীবিত নবজাতকের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৮ জন। বাড়ন্ত শিশুরাও থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতিতে ভুগতে পারে। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বারডেম হাসপাতালের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ডা. জাফর এ লতিফ, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম আশরাফুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহজাদা সেলিম প্রমুখ।

সূত্রঃ মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker