জীবনযাত্রা

দুই জায়গার পরীক্ষায় দুই রকম রোগ!

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম রায়হান (২২) ঢাকার একটি কম্পানিতে চাকরি করছিলেন। গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করেই জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর ১১ জুলাই বনশ্রী এলাকার অ্যাডভান্স হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেখানকার চিকিৎসক ড. ফজলুর রহমান চৌধুরীকে দেখান। ভর্তির পর থেকে একাধিকবার তাঁর রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গুর উপস্থিতি নিশ্চিত করে ওই হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ। তখন চিকিৎসক তাঁকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার ওপর ব্যবস্থাপত্র দেন। পরে ১৭ জুলাই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

পরে রায়হান আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকার চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২৫ জুলাই ভাঙ্গুড়ায় চলে আসেন। পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠান। পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেন। ১ আগস্ট সদর হাসপাতালের সামনের পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করান তরিকুল। এ সময় তাঁর রক্তে টাইফয়েডের জীবাণু আছে বলে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগ জানায়। এমনকি ওই রোগী কখনোই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি বলে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়। এর পর থেকে রায়হানের টাইফয়েডের চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসক। পরে পাবনা সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে আবারও ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হন তরিকুল। ভাঙ্গুড়া হাসপাতালে দুদিন অবস্থান করার পর চিকিৎসকের পরামর্শে গত শনিবার অসুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে যান তিনি। তরিকুল এখন পাবনা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে টাইফয়েড জ্বরের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাচ্ছেন। তবে তিনি টাইফয়েড নাকি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন তা নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগী তরিকুল ইসলাম রায়হান বলেন, ‘আমি জানি না আমার ডেঙ্গু নাকি টাইফয়েড হয়েছে। ডাক্তাররা যখন যেটা বলছেন তখন সেটাই মেনে নিয়ে ওষুধ খাচ্ছি।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রথমে ঢাকার একটি ক্লিনিক থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবেদন নিয়ে ভাঙ্গুড়া হাসপাতালে এসে ভর্তি হন তরিকুল। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে একটি প্যাথলজি সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করে তার শরীরে ডেঙ্গুর পরিবর্তে টাইফয়েডের জীবাণু ধরা পড়ে।’ কোন প্যাথলজির পরীক্ষা সঠিক তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা নিশ্চিত হতে আরো উচ্চতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন বলে মনে করছি।’

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker