স্বাস্থ্য পরামর্শ

যেসব জোড়া খাবারে প্রদাহ কমে

সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শরীরের অন্যতম কমন সমস্যা হলো প্রদাহ (জ্বালাপোড়া, ব্যথা)। ইনজুরি অথবা ইনফেকশন থেকে প্রদাহ হতে পারে এবং এই প্রদাহ থেকে মারাত্মক রোগের বিকাশ ঘটতে পারে। কিছু খাবার রয়েছে যা প্রদাহ কমাতে পারে, কিন্তু কিছু জোড়া খাবার (একসঙ্গে দুটি খাবার খাওয়া) আরো বেশি প্রদাহ উপশম করতে পারে। এখানে শরীরের প্রদাহ উপশমের জন্য সাতটি জোড়া খাবার বা ফুড কম্বো উল্লেখ করা হলো।

* সবুজ শাক+অলিভ অয়েল

কে বলেছে ফ্যাট শত্রু? গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ শাক বা সবুজ পাতাযুক্ত সবজি ও একটি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎসের সমন্বয় লুটেইন ও বিটা ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণ বৃদ্ধি করতে পারে। লুটেইন হলো একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের প্রদাহ কমাতে পারে- এভাবে এটি নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার প্রতিরোধে সাহায্য করে, যেমন- বয়স সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন। আরেকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো বিটা ক্যারোটিন, যা বয়স্ক লোকদের শরীরের সকল অংশ থেকে প্রদাহ হ্রাস করতে পারে বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে। আপনার স্বাস্থ্যের সমৃদ্ধির জন্য সালাদে অলিভ অয়েল ছিটাতে পারেন।

* পালংশাক+ব্লুবেরি

পালংশাক ও ব্লুবেরি দিয়ে স্মুদি তৈরি করুন এবং ব্যায়ামের আগে ও পরে পান করুন। একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব অ্যাথলেট ৬ সপ্তাহ ধরে ব্লুবেরি খেয়েছিল তাদের ব্যায়াম পরবর্তী প্রদাহ হ্রাস পেয়েছিল। অন্য একটি গবেষণায় প্রাপ্ত ফল অনুসারে, পালং শাক ব্যায়ামের সময় শ্বাসক্রিয়া ও অক্সিজেনের প্রবাহে সহায়ক হতে পারে। পালং শাকের নাইট্রেট ব্যায়ামের সময় মাংসপেশিকে অধিক কার্যকরভাবে কাজ করাতে পারে, অন্যদিকে ব্লুবেরি ব্যায়াম পরবর্তী পেশি ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

* মসুর ডাল+লেবু

মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের কাছাকাছি সময়ে নারীরা আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তস্বল্পতার (শরীরে খুব কম আয়রনের কারণে খুব কমসংখ্যক লোহিত রক্তকণিকা) উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের আয়রন ডিসঅর্ডার ইনস্টিটিউট অনুসারে, আয়রন ঘাটতি জনিত রক্তস্বল্পতার উৎপত্তি হয় প্রদাহমূলক প্রতিক্রিয়া থেকে এবং প্রদাহ রক্তে আয়রনের মাত্রা সীমিত করতে পারে। মসুর ডাল ও বিনসের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার এবং উচ্চ অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ও ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ সাইট্রাস ফল (যেমন- লেবু) একসঙ্গে খেলে শরীরে আয়রন শোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

* মিষ্টি আলু+লাল মরিচের গুঁড়া

ভাজা মসলাদার মিষ্টি আলু ক্ষুধা নিবারণের চেয়েও বেশি কিছু করতে পারে। বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ কমলা রঙের খাবারে (যেমন- মিষ্টি আলু ও মিষ্টি কুমড়া) সায়েন পিপার বা লাল মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে খেলে ভিটামিন এ শোষণ বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় পাওয়া গেছে, প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যায় (যেমন- ব্রণ ও ব্রঙ্কোপালমোনারি ডিসপ্লেসিয়া) ভিটামিন এ সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এই কম্বোকে এ প্লাস দিয়েছেন।

* রাসবেরি+আঙুর

ফল খেয়ে আপনার সুইট টুথকে সন্তুষ্ট করতে পারলে অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারলে প্রদাহকে পরাজিত করতে পারবেন। রাসবেরি ও আঙুর উভয় ফলেই প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিবেচনায় এ দুটি ফল একসঙ্গে খেলে একটি ফল (রাসবেরি অথবা আঙুর) খাওয়ার তুলনায় ভালো ফল পাওয়া যায়। রাসবেরিতে ইলাজিক অ্যাসিড থাকে, যা আঙুরে প্রাপ্ত কোয়ারচেটিনের ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এ দুটো ফলের সমন্বয় ইনফ্ল্যামেশন-ফাইটিং মেশিন হিসেবে কাজ করে। গবেষণা সাজেস্ট করছে যে, এই কম্বো হার্ট ও রক্তনালির রোগ, অস্টিওপোরোসিস ও ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকিও হ্রাস করতে পারে।

* আমন্ড+কেফির

সুখী ও সুস্থ অন্ত্রের জন্য কিছু আমন্ড কেটে এক বাটি কেফিরে যোগ করে খেতে পারেন। দইয়ের মতো এই দুগ্ধজাত খাবারও অন্ত্রে শতশত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অথবা প্রোবায়োটিক সরবরাহ করে। বিশেষজ্ঞরা পাকস্থলি-বান্ধব ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে কেফিরের সঙ্গে আমন্ড খেতে পরামর্শ দিচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আমন্ডের খোসা প্রিবায়োটিক (যা কেফিরের প্রোবায়োটিককে খাওয়ায়) হিসেবে কাজ করে এবং অন্ত্রকে রক্ষাকারী ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন করে- এটি অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, ক্রন’স রোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রনিক পাউচিটিস উপশম করতে পারে।

* রসুন+পেঁয়াজ+বাদামী চাল

এটা সত্য যে রসুন ও পেঁয়াজ খেলে শ্বাস দুর্গন্ধময় হতে পারে, কিন্তু এগুলো হলো গোটা শস্যে (যেমন- বাদামী চাল ও গমের পাস্তা) সংযোজনের জন্য ভালো খাবার। এসব খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরে জিংক শোষণের ক্ষমতা তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। একটি গবেষণায় যেসব বয়স্ক লোক জিংক সাপ্লিমেন্ট সেবন করেছিল তাদের ক্রনিক প্রদাহ জনিত রোগের (যেমন- অ্যাথেরোস্ক্লেওরোসিস, ক্যানসার, নিউরোডিজেনারেশন ও ইমিউনোলজিক ডিসঅর্ডার) ঝুঁকি ৬৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তাই মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে শ্বাসের দুর্গন্ধকে মেনে নেয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

সূত্রঃ রাইজিংবিডি 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker