বিনোদন

একটি ধূমকেতুর অকাল পতনের দিন আজ

সালমান শাহকে বলা হতো ঢাকাই ছবির সাফল্যের বরপুত্র। তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক। সালমানের অভিনয় স্টাইল, পর্দায় তার সপ্রতিভ উপস্থিতি আর নায়কোচিত ইমেজ আজও অন্য তারকাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে আছে। আজ তার প্রস্থানের ২৩তম বার্ষিকী। শ্রদ্ধাভরে আমরা স্মরণ করছি চিরকালের এই মহানায়ক আর ঢাকাই চলচ্চিত্রের সাফল্যের বরপুত্রকে। তাকে নিয়ে লিখেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘প্রেম পিয়াসী’ ছবির ডাবিং করতে এফডিসি যান সালমান শাহ। সেখানে ছিলেন তার সহশিল্পী নায়িকা শাবনূর। কিছুক্ষণ পর সালমান তার বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরীকে ফোন করে বলেন, তার স্ত্রী সামিরাকে নিয়ে এফডিসির সাউন্ড কমপ্লে­ক্সে আসার জন্য। শ্বশুরের সঙ্গে সাউন্ড কমপ্লেক্সে এসে সামিরা দেখতে পান সালমান ও শাবনূর ঘনিষ্ঠভাবে খুনসুটি করছেন। এতে উত্তেজিত হন সামিরা। কিছুক্ষণ পর কমরউদ্দিন চলে গেলে সামিরাও দ্রুত গাড়িতে ওঠেন। পরিস্থিতি খারাপ দেখে একই গাড়িতে ওঠেন সালমান শাহ ও চিত্রপরিচালক বাদল খন্দকার। রাত ১১টার দিকে নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বি-১১ নম্বর ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিয়ে বিদায় নেন বাদল খন্দকার। সামিরাও তখন ঘরে। সাড়ে ১১টার দিকে সালমান বেডরুমে গিয়ে টিভি দেখেন। তখনো তাদের মধ্যে কথা বন্ধ। ১২টার দিকে সালমানের মোবাইলে একটি ফোন আসে। তিনি বাথরুমে গিয়ে কথা বলে বেরিয়ে টিভি বন্ধ করে অডিও ক্যাসেট ছাড়েন। এ সময় আরও একটি ফোন আসে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ক্ষুব্ধ সামিরা ব্যাগ গুছিয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ফুফুর বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। সালমানের পিএ আবুল ইন্টারকমে দারোয়ানকে গেট না খুলতে নিষেধ করেন। ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ‘তুমি শুধু তুমি’ ছবির শুটিংয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সালমান ঘুমাতে থাকেন। এ সময় সালমানের বাবা কমরউদ্দিন ছেলের ফ্ল্যাটে আসেন। সালমানকে বলেন, মা, ভাই ও তাকে নিয়ে সিলেটে যাবেন। তখন সিদ্দিক নামের এক প্রযোজকও আসেন।
বেলা ১১টার দিকে সালমান ঘুম থেকে উঠে দুই কাজের মেয়ের একজনকে ডেকে চা ও পানি খান। কিছুক্ষণ পর ড্রেসিংরুমে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা লক করে দেন। ঢোকার আগে আবুলকে বলে যান, তাকে যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে। সাড়ে ১১টার দিকে সামিরাকে জাগিয়ে আবুল বলেন, অনেকক্ষণ আগে ড্রেসিংরুমে ঢুকলেও সালমানের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। সামিরা দরজার ডুপ্লিকেট চাবি খুঁজতে থাকেন। পৌনে ১২টায় ডুপ্লি­কেট চাবি দিয়ে আবুল ও সামিরা ড্রেসিংরুমের দরজা খুলে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছেন সালমান। সামিরা ও দুই কাজের মেয়ে সালমানকে উঁচু করে ধরেন। পাশের বাসার কাজের মেয়ে দড়ি কেটে সালমানকে নামিয়ে আনেন।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker