আন্তর্জাতিক

টয়লেটের সামনে সেলফি তুললেই মিলবে টাকা

অক্ষয় কুমার অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমা টয়লেট- এক প্রেম কথা। ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমায় দেখানো হয়েছিল উত্তর প্রদেশের নারীদের খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করার কদর্য দৃশ্য। সেখানে সিনেমার নায়িকা সমাজের এই কুৎসিত প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

তবে এবার সিনেমা নয় বাস্তবে ভারতের মধ্য প্রদেশের সরকার খোলা জায়গায় শৌচকর্ম না করে টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতে এক অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির নাম ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ/নিকা যোজনা’। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বচ্ছ ভারত অভিযানের আওতায় গৃহীত কর্মসূচি।

কর্মসূচী অনুযায়ী, মধ্য প্রদেশের সামাজিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের কোনো ছেলেকে বিয়ের আগে বাড়িতে টয়লেট তৈরি করতে হবে। শুধু তাই নয়, টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে সরকারি দপ্তরে জমা দিতে হবে। এজন্য নববধূ পাবে নগদ ৫১ হাজার রুপি।

এই কর্মসূচি অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কারণ ভারতের উত্তর ও মধ্য প্রদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করে। ভোরের আলো ফোটার আগেই সেখানকার আবালবৃদ্ধবনিতা লোটা (পানি রাখার পাত্র) নিয়ে বেরিয়ে পড়ে শৌচকর্মের জন্য। বাড়িতে শৌচালয় বানানোর অনুমতি নেই। কারণ, সেই প্রাচীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুক্তি, একই বাড়িতে রান্নাঘর, ঠাকুর ঘরের সঙ্গে শৌচালয় থাকতে পারে না।

ফলে রাজ্য সরকার চাইছে প্রাচীন এই কুসংস্কার ভেঙে রাজ্যবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয় ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে। ২০১৩ সাল থেকে এই কর্মসূচি চালু হলেও সেলফি এতে নতুন সংযোজন। সরকারি এই কর্মসূচি সফল করতে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

জারা হাসান ওয়েলফেয়ার সমিতির চেয়ারম্যান মুখতার হাসান এমনই একজন। এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘চলতি মাসে আমরা একটি গণবিবাহের আয়োজন করি। সেখানে বেশ কয়েকজন দম্পতি মালা বদল করেন। তবে সরকারি দপ্তর থেকে তাদের বিয়ের আগে সেলফিসমেত টয়লেটের ছবি জমা করতে হয়েছে। যারা উপযুক্ত এই ছবি দেখাতে পারেননি, তাদের বিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।’

সরকারি এই কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পুরুষেরা স্বভাবতই খুব একটা খুশি নয়। কারণ বেশিরভাগেরই বাড়িতে শৌচাগার নেই। কাজেই নতুন করে শৌচাগার বানিয়ে সেলফি তুলে পাঠাতে নারাজ অনেকেই।

আবার অনেকে অন্য যুক্তিও দেখাচ্ছেন। এদেরই একজন মুহাম্মদ সাদ্দাম। তিনি বলেন, সেলফি তোলার চেয়ে সরকারি লোক এসে তাদের বাড়িতে দেখে যাক শৌচাগার আছে কিনা। কারণ সেলফি তো যেকোনো শৌচাগারের সামনে দাঁড়িয়ে তুললেই হয়।

তবে পুরুষেরা অখুশি হলেও নারীরা এই উদ্যোগ স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। পাশাপাশি মিলছে নগদ অর্থ। তাছাড়া এতদিন তাদের লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে খোলা জায়গায় শৌচকর্মে যেতে হতো। এবার তার স্থায়ী সমাধান মিলবে।

সূত্রঃ রাইজিংবিডি ডট কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker