স্বাস্থ্য পরামর্শ

হাঁটু-কোমরে ব্যথা নিয়েও দিব্যি ঘুরে বেড়ানো সম্ভব, যদি …

কাজের ফাঁকে কয়েকদিন ঘুরে আসার পরিকল্পনা অনেকেরই থাকে। ছুটি মিললেও বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা আর থাকে না ব্যথার কারণে। টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং সব সহজে মিটলেও হাঁটুর ব্যথা বা কোমরে ব্যথা অনেক সময় পছন্দের জায়গায় যেতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তবে চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার খুব একটা শত্রুতা নেই। পাহাড়ি সর্পিল পথ হোক বা সমুদ্রের তুমুল তুফান— সঠিক নিয়ম মেনে চললে ব্যথা বাধা হবে না কোনো কিছুতে।

অবশ্য বেড়াতে যাবেন বলে হুট করেই নিয়ম মানলে সব ঠিক হয়ে যাবে না। বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে সারা বছরই মেনে চলতে হবে বিশেষ নিয়ম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা ক্ষণ শরীরের ভার বহন করতে গিয়ে হাঁটু ক্লান্ত হয়ে পড়ে সবার আগে। জটিল কোনো অসুখ না থাকলে সাধারণ আরথ্রাইটিসের সমস্যা নিয়ে বেড়াতে যাওয়া যেতেই পারে। তবে কোনো কোনো জটিল রাস্তা একটু এড়িয়ে চলতে হয় বা কখনো নি-ক্যাপ, বেল্টের মতো জিনিস দিয়েও সেসব সমস্যা অনেকটা কব্জা করে রাখা যায়।

সাধারণ কোনো অসুখ ছাড়াও ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা, ভুল সাইজের জুতা পরা থেকেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। অনেকেই শরীরচর্চায় ফাঁক রাখেন। সেখান থেকেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে।

অন্যদিকে কিছু ব্যথা আমরা ডেকে আনি। সারা ক্ষণ নরম গদির চেয়ারে বসা, মেরুদণ্ড সোজা না রেখে বেঁকে বসা, আধ শোয়া হয়ে ল্যাপটপে কাজ বা বই পড়ার কারণে কোমরের ব্যথা ডেকে আনে।

যা করবেন

প্রতিদিন নিয়ম করে মিনিট দশেক কোয়াড্রিসেপস ব্যায়াম শুরু করুন। স্কোয়াট, পুশ আপ, হাই নি জগিং, ঘাম ঝরিয়ে দ্রুত গতিতে হাঁটা এ সবও হাঁটুকে মজবুত করে। পেশি সবল হলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।

কোমরে ব্যথার জন্য কিছু হিপ এক্সারসাইজ, নিয়মিত ওঠা বসা, ওজন কমানোর জন্য প্লাঙ্ক, ক্রাঞ্চ এগুলো অবশ্যই প্রয়োজন। যাদের ক্রনিক কোনো অসুখের জন্য হাঁটু বা কোমরে ব্যথা আছে তারা অবশ্যই চিকিৎসকরে পরামর্শ মেনে ব্যায়াম করবেন এবং ওষুধ খাবেন।

বেড়াতে যাওয়ার আগেও এত বার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ব্যথা সারানোর সরঞ্জাম সঙ্গে রাখুন। চটি নয়, বেড়াতে গেলে নরম সোলের কিটো বা স্নিকার্সে ভরসা রাখুন। বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ডক্টর’স শু-ও পায়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছা মতো নয়, সেই জুতাও কিনুন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে।

হোটেলে থাকার সময় পরার জুতায় যেন গ্রিপ থাকে। প্যারাসিটামল সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। কোনো কারণে ব্যথা বাড়লে কাজে আসবে। ট্রেনে করে গেলে লোয়ার বার্থ বুকিং করবেন। দরকারে স্টেশন থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের জন্য আগে থেকে হুইল চেয়ার বুকিং করে রাখুন।

পাহাড়ে বেড়াতে যান, তবে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেকিং করতে যাবেন না। বেশিরভাগ পথ গাড়িতে যান। সে উপায় না থাকলে ডুলি, ঘোড়া এ সব নিতে পারেন। হেঁটে যেতে চাইলে নি ক্যাপ, বেল্ট ব্যবহার করে ধীরে ধীরে হাঁটুন। হাতে সাপোর্টও রাখতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন নি ক্যাপ, বেল্ট স্ট্র্যাপ লাগানো হয় ও খুব টাইট না হয়।

সমুদ্রে নামতে পারেন। তবে অশান্ত সমুদ্রে না নামাই ভালো। ঢেউয়ের ধাক্কায় পড়ে গেলে বিপদ ঘটতে পারে।

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker