জীবনযাত্রা

মাকে বাঁচাতে মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

মা এই অর্থটা প্রতিটি সন্তান কিছু দিয়েই বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখেনা…
আমিও পারবো না…
পৃথিবীতে খারাপ সন্তান আছে কিন্তু খারাপ মা নেই….
বা থাকলেও আমি বোধগম্য নই সে বিষয়ে….

আমার মাকে নিয়ে ছবি দিবো, আবেগকরে ভালবাসি বলবো আর সাধারণদের মতো করে এটাই স্বাভাবিক থাকার কথা ছিল…
কিন্তু অইযে সবার ভাগ্যে সব হয় না…
আমার মাকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে অন্যভাবে….
আমি ছোটকাল হতেই মাকে সংগ্রামী জীবন পার করতে দেখেছি…
ছোটবেলায় বাবার জব চলে গেছিলো মা তখন টিউশন করে পরিবারের হাল ধরেছিলেন বাবা বলেছিলেন…
নিজের ঘরে খাবার নাই তবু আত্নীয়স্বজনের জন্য করতে দেখেছি বাবা মাকে দুজনকেই….
অনেক চড়াইউৎরাই পার করে সুখের মুখ যখনি দেখলেন আমরা দুভাইবোন বড় হলাম…
তখনি নতুন ঝড় এলো মায়ের জীবনে..
মায়ের কিডনি নষ্ট ধরা পড়লো ২০১৪ সালে…
ডাঃ বললেন মেডিসিন খান এতে আর সমস্যা হবে না…
মেডিসিন চলছিল সে অসুস্থ হয় আবার সুস্থ হয় এভাবেই চলছিল…
২০১৬ সালে আমার মাষ্টার্স শেষ হয়….চাকুরী খোঁজে ছুটলাম… পেলাম বেসরকারি চাকুরী ২০১৮ সালের এপ্রিলে জয়েনিং করার পর পর বাবা অফিস হতে আসার পর মন খারাপ করে থাকতেন জিগাস করলে বলতেন তার চাকুরী আর থাকবে না হয়তো….
বয়স্কলোকদের ছাটাই চলছে..
মা তখন অসুস্থ সে বাবাকে সাহস দিতেন বলতেন গেলে যাবে চাকুরী… মেয়ে এখন চাকুরী করে আর ছেলেও কিছু করবে ঠিক চলে যাবে
আমাদের….
কিছুতেই মাকে সাহস হারাতে দেখিনি….
যথারীতি বাবার চাকুরী গেলো….
অবসরজনীতরা অসুস্থ হয়ে পড়ে মানসিক টেনশনে বাবার সেটাই হলো….
যেখানে সেখানে মাথাঘুড়িয়ে পড়ে যান..
মা এতোদিন তাকে দেখভাল করে রাখতেন…
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মা অনেক অসুস্থ হন, সারাশরীর কালচে আর হাতপায়ে জল এসে গেছে বুঝলাম, বাবা অসুস্থ তবু তাকে বললাম মাকে ডাঃ চেকাপ করিয়ে আনতে…
ডাঃ কাছে গেলে ভর্তি করায় আর ডায়ালাইসিস শুরুর কথা বলে তার মানে কিডনি আর কাজ করছে না…
এর আগে ডাঃ ডায়ালাইসিস দিতে হবে বা কোনধারনা বাবা বা আমাকে ডাঃ বলেনি…
নানাদিক ছুটতে লাগ্লাম যেখানেই যাই সব ডাঃ বলেন ডায়ালাইসিস দিতে হবে রোগীকে বাঁচাতে….
শুরু হলো যুদ্ধ পরিবারের সবার…
একদিন পর পর ডায়ালাইসিস, হুম এতোদিন কষ্ট হলেও নিতে পেরেছিল ডায়ালাইসিস…
এর মধ্য নানান দূর্ঘটনা ছিলোই..
মাথায় আঘাত পাওয়া, পড়ে গিয়ে পা ভেঙগে ফেলা…
প্রতিমাসে দুব্যাগ রক্তদেয়ায় সি ভাইরাসে আক্রান্ত…
কিছুদিন আগে হাতের ফিষ্টুলা নষ্ট হয়ে যাওয়া…
এতো কিছু সামলে নেয়ার শারীরিক মানসিক শক্তিধর আমার মা…

সেদিন মা ডাঃ এর কাছে কান্না করে বলছিলেন আমি আমার সন্তানদের কাছে আর কিছুদিন বাচতে চাই..

ডাঃ ট্রান্সপারেন্ট ছাড়া আর কিছু বলছে না…
ট্রান্সপারেন্ট করাতে দেশে ১০ লাখ লাগবে,
যা আমার বা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়….

আমি সন্তান হয়ে মাকে বাঁচাতে পারবো না….
একটা অসুখের কাছে হেরে যেতে হবে….
এতো দিন কাছের কিছুমানুষ জানতেন যে একটা যুদ্ধ করে যাচ্ছি…
নিজের পরিবার নিজের সব তাই কাউকে জানাতে চাইনি সত্যি অর্থে….
এখন যখন লড়াইটা একা লড়লে আমি আর পারবো না…
সামর্থ্য নেই আমার আর একার….
যা ছিল একবছরে চিকিৎসাবাবদ শেষ….
তাই আমি আমার সহযোদ্ধাদের জানিয়েছি তারা তাদের সবোর্চচ চেষ্টা করছেন করবেন আশ্বস্থ করেছেন….
আর এছাড়া আমি আমার ফেসবুকের সকল বন্ধুদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি মাকে বাঁচাতে।।। আপনারা সবাই যার যার জায়গা হতে নিজেরা যাই পারেন সাহায্য করবেন এবং অন্যদের জানাবেন প্লিজ…
সবাই একসাথে এই যুদ্ধে লড়ে গেলে আমি আমার মাকে বাঁচাতে পারবো এটা আমার বিশ্বাস….

আর্থিক সহযোগীতার জন্য বিকাশ এবং একাউন্ট নাম্বার দেয়া হলো:

বিকাশ: 01918178340
একাউন্ট নম্বর :
Monika Rani Biswas
acc: 0173209000007148
UCBL, Elefhant Road Branch

(মনিকা বিশ্বাসের ফেসবুক থেকে নেয়া)

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker