অপরাধবাংলাদেশ

মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বলেছেন, মধ্যরাতে কারও বাড়িতে যাওয়ায় বিধি-নিষেধ আছে। অভিযানের জন্য যেতে হলে, আইনি কিছু পদক্ষেপ থাকতে হয়। আরিফুলের ক্ষেত্রে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার বৈধতা নিয়ে করা রিটের শুনানিতে আজ রোববার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের কাছে ওই বিষয়সহ কয়েকটি বিষয় জানতে চেয়েছেন। ওই অভিযান কে পরিচালনা করেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত না কি টাস্কফোর্স তাও জানাতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের ওপর শুনানি হয়। শুনানির পর আদালত কাল সোমবার আদেশের জন্য দিন রেখেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে সোমবারের মধ্যে ওই সব তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

আরিফুলকে দেওয়া সাজা ও দণ্ডাদেশের অনুলিপি, অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হওয়া ও অভিযান পরিচালনার কারণ এবং আইন অনুসারে ঘটনা কার সম্মুখে ও কখন সংঘটিত হলো-এসব তথ্যাদি রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলা হয়। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশিস ভট্টাচার্য্যকে কাগজাদি ও তথ্যাদি জানাতে বলা হয়েছে।

আরিফুল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি। তাঁকে গত শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযান পরিচালনাকারীদের দাবি। ওই কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জনস্বার্থে আজ রিটটি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও সৈয়দ সায়েদুল হক, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশিস ভট্টাচার্য্য।

রিটে টাস্কফোর্সের নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আরিফুলকে দেওয়া অবৈধ সাজা কেন সংবিধান পরিপন্থী হবে না এবং আরিফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না-এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিজেদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দিতে আদালতে হাজিরের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আরিফের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলার নথি এবং টাস্কফোর্সের ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নথিপত্র তলবের আরজি রয়েছে রিটে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker