Featuredবাংলাদেশরাজধানীরাজনীতিশিক্ষা

পুনরায় তফসিল চান সাবেক শিক্ষার্থীরা

২৮ বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে পুনরায় তফসিল ঘোষণার দাবী জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১১ মার্চ) বিকেল পাঁচটায় শাহবাগে সাবেক শিক্ষার্থীদের সমাবেশ থেকে ডাকসু নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা মানবেন্দ্র দেব বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই আমরা আলোচনা করছিলাম, ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে, নাকি ১০ মার্চ রাতে হবে। এরপর মনে হলো, না এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে এমনটা হবে না। এরপর আগের রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ব্যারিকেড দিয়ে দিলো। তখন মনে হলো- না, বহিরাগতরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। সুষ্ঠু ভোট হবে। কিন্তু আমাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপত্তা ব্যারিকেড দিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ওই হল থেকে জালিয়াতি ও ডাকাতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেছেন। ডাকসু নির্বাচনের এই ভোট ডাকাতি ও জালিয়াতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কর্মচারী যুক্ত ছিলেন না। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যা পাঠ করান এবং আদর্শের কথা বলেন, সেসব শিক্ষক এই ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও ইতিহাসে কোনও পরাজয় নেই। সব সময় জয় হয়েছে। আমরা হারতে শিখিনি। ভোট জালিয়াত ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আমরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও জয়ী হবে।’

সাবেক শিক্ষার্থী বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘যেভাবে আজকে ভোট ডাকাতি হয়েছে তা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমি লজ্জিত। তবে এরমধ্যেও আশার দিক হচ্ছে, ক্যাম্পাসে সাহসী শিক্ষার্থীরা এই ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দিচ্ছেন। তাদের এই সাহসী আন্দোলনে সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অংশগ্রহণ করা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। আমাদের সবাইকে তাদের আন্দোলনে শরিক হতে হবে।’

প্রসঙ্গত, রোকেয়া হল থেকে তিন ট্রাংক ব্যালট উদ্ধারের পর ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেলা ৩টার দিকে আবার ভোট শুরু হয়। এছাড়া কুয়েত মৈত্রী হলের প্রার্থী ও ভোটাররা জানান, ভোট শুরুর আগে থেকে হলের অডিটোরিয়ামে একটি কক্ষ বন্ধ ছিল। সকালে সেই কক্ষ থেকে প্রার্থী ও ভোটাররা এক বস্তা ব্যালট উদ্ধার করেন। তাতে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের নামে সিল মারা ছিল। পরে প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোট বন্ধ করে দেন। এক ঘণ্টা পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে ডাকসুর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন হলে সিল দেওয়া ব্যালট উদ্ধারের ঘটনা এবং ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ বাধাদানের অভিযোগ এনে দুপুরে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন প্রার্থীরা। ছাত্রলীগ বাদে অন্য সব প্যানেলের প্রার্থীরাই ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। এরমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন পদের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নতুন ভোট গ্রহণের পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker