বাংলাদেশ

ভুট্টা পাতার হাট বসেছে লালমনিরহাটে!

লালমনিরহাটের প্রধান অর্থকারী ফসল হল ভুট্টা। এ বছর জেলায় ভুট্টা চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ফলনও ভালো হবে। ইতোমধ্যে চর এলাকাগুলোতে ভুট্টা তোলা শুরু হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ভুট্টা তোলা শুরু হবে। ফলে এখন কৃষকরা তাদের ভুট্টা ক্ষেতে গাছের মাথা ও পাতা ছিঁড়ে ফেলছেন।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চর অঞ্চলের নিম্ন আয়ের লোকজন ভুট্টা গাছের পাতা বিক্রি করে কিছুদিন জীবন-জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন। প্রতি বিঘা ভুট্টা ক্ষেতের পাতা ও গাছের মাথা কাটতে ২ জন করে শ্রমিক লাগে। কিন্তু তা এখন আর লাগছে না। নিম্ন আয়ের লোকজন বিনামূল্যে পাতা ছিঁড়ে ও মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

এখন মাঠে কাজ না থাকায় দিনমজুর শ্রেণির লোকজন পরিবারের সবাই মিলে ভুট্টা গাছের পাতা ছিঁড়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছে। দামে কম হওয়ায় অনেকেই গো-খাদ্য হিসেবে তা কিনছেন। এতে একদিকে নিম্ন আয়ের লোকজনের আয় হচ্ছে, অন্যদিকে কম দামে বিভিন্ন গবাদিপশু খামারিরা তাদের পশুর খাদ্য পাচ্ছে ও কৃষকদের ভুট্টা উৎপাদনে খরচও কমে যাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্লাহাট, ভোটমারী, হাতীবান্ধা উপজেলার ঘুন্টি, পারুলিয়া, হাতীবান্ধাহাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ভুট্টা পাতার হাট বসছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার দিনমজুর আলী মিয়া বলেন, বর্তমানে এলাকায় কোনো কাজ নেই।  তাই আমি ও আমার স্ত্রী প্রতিদিন সকালে চরে গিয়ে ভুট্টা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে এসে ভোটমারী বাজারে বিক্রি করি। এতে প্রতিদিন ২৫০ টাকা থেকে ৩’শ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। পাতার জন্য ক্ষেত মালিকদের কোনো টাকা দিতে হয় না। কয়েকদিন পর ভুট্টা তোলা শুরু হলে তখন ভুট্টা তোলার কাজ করবো।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর সির্ন্দুনা এলাকার কৃষক আইযুব আলী জানান, ভুট্টা তোলার ১৫/২০ দিন আগে গাছের পাতা ও মাথা কেটে দিতে হয়। এতে ভুট্টায় সূর্যের আলো পড়লে ভুট্টার রং ভালো হয়।
প্রতিবিঘা ভুট্টা ক্ষেতে পাতা ও মাথা কাটতে ২ জন করে শ্রমিক লাগে।  কিন্তু এখন তা লাগছে না। অনেকেই পাতা ও গাছের মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।  এতে একদিকে আমাদের উৎপাদন খরচ কমে যাচ্ছে।  অন্যদিকে নিম্ন আয়ের লোকজন তাদের জীবিকা চলার পথ পেয়েছে।

হাতীবান্ধা নদী ও চর উন্নয়নের সভাপতি অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান জানান, এ সময়টা কাজ না থাকায় চর অঞ্চলের নিম্ন আয়ের লোকজন বেকার হয়ে পড়ে। কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে- ভুট্টার পাতা ও ভুট্টা গাছের মাথা বিক্রি হচ্ছে। ফলে কিছু লোকজন কয়েক দিনের জন্য হলেও তাদের কর্মসংস্থান পায়। অন্যদিকে ভুট্টা উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পশু খামারিরা কম দামে তাদের গো-খাদ্য কিনতে পারছে।

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker