বিনোদন

হাত দেখিয়েই লাখ টাকা আয় করেন তিনি

১০ বছর ধরে মডেলিং করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রে মারটেল মুর। পত্রিকার পাতায় ছাপা হওয়া বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, টিভি বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনচিত্র—নানা মাধ্যমেই আপনি হয়তো তাঁকে দেখেছেন। আরও স্পষ্ট করে বললে—মুরকে নয়, আপনি দেখেছেন মুরের হাত! মুরের হাতকে মডেল করতে হলে কাজের ধরন অনুযায়ী আপনাকে দৈনিক ১৫০ থেকে দেড় হাজার ডলারও সম্মানী দিতে হতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকাও হতে পারে। রে মারটেল মুর বলছেন, একটি কাজের জন্য সর্বোচ্চ তিনি ৪ হাজার ডলারও পেয়েছেন, অর্থাৎ ৩ লাখ টাকার বেশি!

মুরের হাতে যা–ই ধরিয়ে দেওয়া হোক না কেন, বেশ মানিয়ে যায়

হাজারো বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে এই মডেল, অভিনেতার হাত। কোথাও কোমল পানীয়ের গ্লাস, কোথাও মোবাইল ফোন, কোথাও–বা কুড়মুড়ে চিকেন ফ্রাই দেখা গেছে তাঁর হাতে।

ভাবতে পারেন, মুরের হাতে কী–ই বা এমন জাদু আছে? বিজ্ঞাপন–সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর হাতের আকৃতিটা ছবি তোলা ও ভিডিও করার জন্য একদম জুতসই। খুব বড় নয়, আবার ছোটও নয়। এবং চামড়ার রংও ছবি বা ভিডিও সম্পাদনার ক্ষেত্রে জুতসই। চিপসের প্যাকেট বা মোবাইল ফোন, যা–ই মুরের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হোক না কেন, বেশ মানিয়ে যায়।

হাত সুন্দর রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ বার ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করেন মুর

কিন্তু কেবল সুন্দর হাত থাকলেই আপনি হাতের মডেল হতে পারবেন না। আপনাকে এর সঠিক যত্ন নেওয়ার উপায় ও ব্যবহারও জানতে হবে। হাত দুটোকে ক্যামেরার উপযোগী করার জন্য মুর প্রতিদিন প্রায় ৩০ বার ময়েশ্চেরাইজার ব্যবহার করেন। সপ্তাহে দুবার তাঁকে ম্যানিকিওর করাতে হয়। রে বলেন, তাঁর ঘরজুড়ে আছে নানা রকম লোশন আর তেল। ত্বকের যত্নের জন্য অবশ্য লোশনের চেয়ে তেলটাই তাঁর পছন্দ। কাপড় বা থালাবাসন ধোয়া তাঁর জন্য একপ্রকার নিষিদ্ধ। কারণ, সাবান বা ডিটারজেন্ট ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পেশাটা বিচিত্র হলেও কাজটা উপভোগ করেন মুর

ছবিতে দেখে খুব সহজ মনে হলেও কিছু কিছু শুটের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। সামান্য একটা হাতের ছবি তুলতে কখনো কখনো ১২ ঘণ্টা লেগে যায়। মুর বলেন, ‘কয়েক সেকেন্ডের জন্য দুই হাত তুলে রাখা সহজ। কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় ১০ মিনিট দুই হাত তুলে রাখতে হবে, নড়াচড়া করা যাবে না, সেটা কিন্তু কঠিন।’

এমন কঠিন দায়িত্ব্ও কখনো কখনো পালন করতে হয় রেকে। ঝক্কি আছে আরও। বিড়াল থেকে ১০০ হাত দূরে থাকেন তিনি। একবার এক বিড়াল মুরের হাতে খামচি দিয়েছিল। ছোট্ট একটা আঁচড় সামাল দিতে পরে হাতে ব্যবহার করতে হয়েছিল মেকআপ।

দুই হাত দেখিয়েই বাজিমাত

সপ্তাহে ২–৩টি শুটিং বা ফটোশুটের কাজ তো থাকেই। সব মিলিয়ে বছরে মুরের আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার (৬৩ লাখ টাকার বেশি)। পেশাটা বিচিত্র হলেও কাজটা উপভোগ করেন নিউইয়র্কের বাসিন্দা এই তরুণ। তিনি বলেন, ‘কেউ বলে না, “আমিও বড় হয়ে তোমার মতো হতে চাই”। কিন্তু আমি আমার পেশা নিয়ে গর্বিত। বিলবোর্ড, ম্যাগাজিন, বাস—নানান জায়গায় নিজের হাতের ছবি দেখতে বেশ লাগে।’

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker