বিনোদন

সিনেমা হল মালিকদের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল

সিনেমা হল মালিকদের স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের লক্ষ্যে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন সিনেমা হল মালিকরা। এক বছর রেয়াতকালসহ ৮ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় এই ঋণের সুদ হার হবে ৫ শতাংশ এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে হবে সাড়ে ৪ শতাংশ। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো এই সার্কুলারে বলা হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পী ও কলাকুশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের নবজাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ৩ এপ্রিল ২০১২ তারিখে চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেন।

নব্বই এর দশকে এদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি সিনেমা হল ছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের সুস্থধারার বিনোদন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যমান সিনেমা হলগুলো সংস্কার এবং আধুনিক মানের নতুন সিনেমা হল নির্মাণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সিনেমা হল মালিকদের স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ/বিনিয়োগ প্রদান করা হলে সিনেমা হল মালিকরা নতুন নতুন সিনেমা হল নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলো সংস্কার ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে সক্ষম হবে। সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনা করে, সিনেমা হল মালিকদের অনুকূলে ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে। এ স্কিম পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যমান সিনেমা হলসহ নতুনভাবে নির্মিতব্য সিনেমা হলসমূহও আলোচ্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা প্রাপ্য হবে। তবে, চলতি মূলধন বাবদ কোনোরূপ ব্যয় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় আসবে না। এছাড়া, এ স্কিমের আওতায় গৃহীত ঋণ দ্বারা কোনোভাবেই অপর কোন ঋণ/বিনিয়োগ এর দায় পরিশোধ বা সমন্বয় করা যাবে না। এ স্কিম হতে প্রথম ধাপে ৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। প্রথম ধাপে বিতরণকৃত ঋণ/বিনিয়োগের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে ৫০০ কোটি টাকা বিতরণযোগ্য হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতিটি সিনেমা হল এর জন্য ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধার প্রাপ্যতা যুক্তিযুক্তভাবে অর্থায়নকারী ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হবে। তবে, তা কোনোভাবেই প্রতিটি সিনেমা হলের বিপরীতে পাঁচ কোটি টাকার অধিক হবে না। এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী তপশিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক হতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ শতাংশ এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ হারে তপশিলি ব্যাংক অর্থায়ন করবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংক এ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণে আগ্রহী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশনের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এ ঋণের অর্থ বিদ্যমান সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও এতদসংশ্লিষ্ট মেশিনারি/ যন্ত্রাংশ/ প্রযুক্তি ক্রয় এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণ ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যবহূত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সে পরিমাণ অর্থের ওপর নির্ধারিত সুদ হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ সুদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে হতে এককালীন আদায় করা হবে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker