Featuredকরোনা ভাইরাসবাংলাদেশ

যত টাকা লাগুক, টিকা আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী

দেশের সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে যত টাকা লাগুক প্রয়োজনীয় করোনার টিকা আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় যেসব দল বা গোষ্ঠী সরকার উৎখাতের চিন্তা করছে, তাদের এই দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জনের পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। দরিদ্র মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।
গত বছরের মতো এবারও ঈদের আগে আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাচ্ছে সাড়ে ৩৬ লাখ দরিদ্র, যারা করোনায় কাজ হারিয়ে অসহায়। উদ্বোধনের দিনই ২২ হাজার ৮৯৫ জনের কাছে সহায়তার টাকা পৌঁছে গেছে। আগামী বুধবারের মধ্যে বাকিদের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যাবে টাকা। ক্যাশআউট চার্জ ছাড়াই টাকা তোলা যাবে। গণভবন থেকে ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রামে ভিডিও কনফারেন্স করে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনাভাইরাসের টিকাস্বল্পতার কারণে গত ২৬ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে প্রথম ডোজ টিকাদান কর্মসূচি। রোববার প্রধানমন্ত্রী আশ^স্ত করেন, সবার জন্য টিকার ব্যবস্থা করবে সরকার। করোনা পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। অসুস্থ ও করোনায় স্বজন হারানো প্রতিবেশীদের সঙ্গে মানবিক আচরণের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জানান, যেসব এলাকায় করোনার প্রকোপ কম, সেখানে গণপরিবহন চালু এবং আন্তঃজেলা বাস শ্রমিকদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। করোনা আক্রান্ত জেলা থেকে যেন অন্য জেলায় মানুষ যাতায়াত না করে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়, যুগ যুগ ধরে দুর্যোগে জনগণের পাশে থেকেছে আওয়ামী লীগ। যারা করোনাকালে সরকারের সমালোচনা করছেন, তারা কতজন মানুষকে সাহায্য করেছেন প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। মহামারির মধ্যে তারা নিজেরা কতজনকে সাহায্য করেছেন, সেই হিসাব পত্রিকায় দিতে বললেন শেখ হাসিনা।
বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, প্রতিদিন যারা ‘সরকার উৎখাতের’ জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়, মহামারির এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে তাদের ‘দেখা যাচ্ছে না’।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে তার দল আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ততটা উদ্যোগ তিনি দেখছেন না। তিনি বলেন, অনেকেই শক্তিশালী বিরোধীদল চায়। আমরাও তো বিরোধীদলে ছিলাম। আমরা বিরোধীদলে থাকতে সবসময় যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সবার আগে আওয়ামী লীগ ছুটে যেত মানুষের পাশে। এটাই বিরোধীদলের কাজ। কিন্তু আজকে যারা নিজেদের বিরোধীদল বা প্রতিদিন সরকার উৎখাতের জন্য বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে যাচ্ছে, দুর্যোগে মানুষের পাশে কোথায় তারা? কয়টা দুর্গত মানুষের মুখে তারা খাবার তুলে দিয়েছে? কয়টা মানুষের পাশে তারা দাঁড়িয়েছে? কয়জন মানুষের কাফনের কাপড় কিনে দিয়েছে? কেউ নেই।
সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজে কয়টা লোককে সাহায্য করেছেন? তার একটা হিসাব পত্রিকায় দিয়ে দেন। তা হলে মানুষ আস্থা পাবে, বিশ^াস পাবে। সেটা হচ্ছে বাস্তবতা। তিনি বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছে এবং অনেকগুলো বেসরকারি টেলিভিশন করে দিয়েছে, রেডিও করে দিয়েছে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতে অনেকগুলো পত্রিকা হয়ে গেছে এবং তারা বেশ ঘরে বসে বসে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছেন।
যারা সমাজে ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তাদের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, তাদের বুদ্ধিটা যখন খোলে এবং তারা পরামর্শ দেন, তার আগেই কিন্তু আমাদের সরকার আওয়ামী লীগ এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে নেয়। সরকার যখন মানুষের কল্যাণে সব পরিকল্পনা গুছিয়ে আনে বা বাজেটে কোন কোন খাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, তা যখন চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখন সেই বুদ্ধিজীবীদের ‘দুয়েকটা বুদ্ধি খোলে’ বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের যে কাজগুলো, সেগুলো আবার তারা আমাদের পরামর্শ দেন। তো ঠিক আছে। তারা বুদ্ধিজীবী, তাদের এত বুদ্ধি, বুদ্ধি বেঁচেই জীবনযাপন করবেন। কাজেই তাদের পরামর্শের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
সরকার বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শের জন্য বসে না থেকে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ এই দেশটা আমাদের। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। রাজনীতি আমাদের জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য। এ কথাটা আমরা ভুলি না।

এ প্রসঙ্গে আবারও বিরোধীদলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দল বা যারাই আছেন, প্রতিদিন কীভাবে সরকার উৎখাত করবে, সে চিন্তা-ভাবনা করেন, তাদের কিন্তু এটা করতে হলে বা শক্তিশালী বিরোধীদল গড়তে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের বিশ^াস ও আস্থা অর্জন করতে হবে।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর তারা ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ আর কখনও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। অপরাধ কী ছিল? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। এটাই তো অপরাধ ছিল?
আওয়ামী লীগ আবার সরকারে ফেরার পর এদেশের মানুষ আবার ‘সেবা পাচ্ছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ যদি কিছু পেয়ে থাকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই পেয়েছে। এদেশটার উন্নতি কীভাবে করতে হবে এটা আওয়ামী লীগ জানে, আওয়ামী লীগই করে যাচ্ছে।

সরকারপ্রধান অনুষ্ঠানে সমাজের বিত্তশালীদেরও এই দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়ানের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানান।
ভোলা, জয়পুরহাট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা অনুদান : মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীনদের সহায়তায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্যে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য এই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ৫ কোটি টাকা প্রদান করেছেন। এ ছাড়া ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’কে দিয়েছেন ৫ কোটি টাকা। এই ১০ কোটি টাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তশালী মানুষকে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় এভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্রঃসময়ের আলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker