Featuredউপসম্পাদকীয়

লুটপাটের টাকা যোগান দিতে গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধি জনগণ মেনে নেবে না: ম.ইব্রাহিম

সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী বিইআরসি আবারো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ছাড়া বাসা-বাড়ী, বিদ্যুত, সার, শিল্প-কারখানা, সিএনজি, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ সকল ক্ষেত্রে গড়ে ৩২.৮% গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ঘাটতি মিটাতে গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধির কথা হয়েছে। কিন্তু বিইআরসি-র গণশুনানীতে কোম্পানিসমূহের প্রতিনিধিগণ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং গণশুনানীতে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও বিশষজ্ঞদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।

গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধির ফলে আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়বে, বাড়বে বাসাবাড়ী, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানিসহ জনজীবনের ব্যয়। কৃষিসহ শিল্প উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন আরো দুর্বিসহ হয়ে পড়বে। এই সরকার মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতির পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুত ও জ্বালানী খাতকে লুটপাটের অন্যতম ক্ষেত্র হিসিবে পরিণত করেছে। সরকার গত দশ বছরে তাদের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে উপর্যুপরি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে আসছে। এবারো গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে জনগণের পকেট কেটে সরকার ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটের টাকা যোগাতে। যে এলএনজি আমদানির ঘাটতি মেটানোর কথা গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে সেই এলএনজি প্রতিহাজার ঘনফুট বাংলাদেশ আমদানি করে ১০ ডলারে; আর ভারত আমদানি করে ৬ ডলারে। লুটপাটের টাকা যোগান দিতে গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধি জনগণ মেনে নেবে না।

গ্যাস উন্নয়ন তহবিল ও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলে জনগণ নিয়মিত অর্থের যোগান দিয়ে আসলেও গত দশ বছরে বাপেক্সকে শক্তিশালী করে স্থলে ও সমুদ্রে দেশের গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যকর ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। সরকারের এই ভুলনীতি এবং দুর্নীতি-লুটপাট দেশকে এলএনজি নির্ভরতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে যুক্তিযুক্ত করার চেষ্টা করছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আমরা একই নীতি দেখে আসছি। এর পিছনে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ আছে। সরকারের এই অপততপরতা মেনে নেয়া যায় না। দেশে সিলিন্ডার গ্যাসের বিপুল চাহিদা রয়েছে। সিলিন্ডার ব্যবসাও ব্যবসায়ীদের অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার ক্ষেত্র বানানো হয়েছে।বাজেটে কৃষিখাত, শিল্পখাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থকে অবহেলা করা হয়েছে। নেই কর্মসংস্থানের কোন দিকনির্দেশনা। বিশাল খেলাপি ঋণ ও ব্যাংকগুলোর বেহাল অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট কোন দিকনির্দেশনা নেই। উপরন্তু ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বাড়বে দ্রব্যমূল্য। নিম্ন আয়ের মানুষে জীবনে নাভিশ্বাস উঠবে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি খাত থেকে ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধে বিশাল বরাদ্দ অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ঋণের জালে আবদ্ধ করে ফেলবে। লুটেরা বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠীর বিদ্যমান ব্যবস্থায় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দুর্নীতি ও লুটপাটের যে সংস্কৃতি চালু আছে, এবারের বাজেটে সরকার তা উলঙ্গভাবে প্রকাশ করেছে।

তাই এই বাজেট লুটপাট ও দুর্ভোগের বাজেট। জনগণের বিরুদ্ধে সরকারের এ অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না। এর প্রতিবাদে বাম জোট আহুত আগামী ৭জুলাই সারাদেশে ন্যায়সংগত আধাবেলা হরতালের প্রতি আমরা বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের পূর্ণ একাত্বতা জানাচ্ছি। একইসাথে দেশব্যাপী যুব ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মীদের হরতাল সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

লেখকঃ ম. ইব্রাহিম, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker