স্বাস্থ্য পরামর্শ

চাষের মাছে কী খাচ্ছি?

আমিষের চাহিদা মেটাতে বাজার থেকে যে মাছ কিনে খাচ্ছি তা কি শুধু আমাদের চাহিদা মেটাচ্ছে? নাকি ভবিষ্যৎ জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা এক সময় মাছ চাষে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে মাছ চাষিরা অধিক লাভের জন্য মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে নিষিদ্ধ মুরগির বিষ্ঠা, ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে তৈরি ফিশ ফিড, কেমিক্যাল, অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশনসহ নানা ওষুধ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা জানিয়েছেন, ওইসব খাবার ও রাসায়নিক দ্রব্যে থাকে নানা ধরনের ক্ষতিকর মাইক্রোসেলসহ এক ধরনের সিসা বা লেড। যা মাছের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সিসা প্রবেশ করার ফলে হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, বন্ধ্যত্ব, ক্যান্সার, স্মৃতি লোপ, আর্থ্রাইটিস, অ্যাজমা ও কিডনি ড্যামেজ পর্যন্ত হতে পারে। রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাছ রান্নার পর উৎকট গন্ধ ও মাছের কাঁটা মাত্রাতিরিক্ত শক্ত হওয়া এর লক্ষণ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন আহমদ জানান, চাষিরা বেশি লাভের জন্য মনোসেক্স কালচারের মাধ্যমে সব কৈ মাছ নারীতে রূপান্তর করেন। আর সব তেলাপিয়া মাছকে পুরুষে রূপান্তর করা হয়। এ কাজটা বাজারে অধিক চাহিদা এবং ব্যবসার জন্যই করেন খামারিরা। আর এ জন্য তারা হরমোন প্রয়োগ করেন। এর মাত্রাতিরিক্ত হলে ওই হরমোন মানবদেহের জন্য ভয়ানক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার মুরগির বিষ্ঠায় নানা ধরনের ক্ষতিকর মাইক্রোসেল থাকে। সেই মুরগির বিষ্ঠা বা ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে তৈরি ফিশ ফিড মাছের খাবারে সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

যা মারাত্মক ক্ষতিকর। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রুমানা শারমীন জানান, আমরা অনেক চেষ্টা করেও চাষিদের মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধ করতে পারছি না। এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় স্বার্থে মাছের খাবার হিসেবে মুরগির খামার থেকে বিষ্ঠা বের করা বন্ধ করতে হবে। পূর্ব ভালুকা এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে মাছের দাম কমে যাওয়ায় আমরা লাভ করতে পারি না। আমাদের টার্গেট থাকে ছয় মাসের মধ্যে বাজারে মাছ বিক্রি করা। কেননা বিল, ভাড়া, শ্রমিক খরচ দিয়ে বছরে দুবার মাছ বিক্রি করতে না পারলে মাছ চাষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই মাছের খাবার হিসেবে কম দামে কেনা খাবার ও মুরগির বিষ্ঠার ওপর নির্ভর করতে হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker