বাংলাদেশরাজনীতি

আজ শহীদ মাজাহারুল হক আসলাম দিবস

১৯৮৬ সালের ৩০ মার্চ সামরিক স্বৈরাচারের সময় সংসদ নির্বাচনের ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো। এই ইস্যুতে সারাদেশব্যাপী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা-কর্মীদের উপর এসব সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর প্রতিবাদে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে ৩০ মার্চ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মিছিল করতে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন বিরোধী বিএনপি ও জাসদ ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় আক্রান্ত হয়। এই সময় ঘাতকের একটি বুলেট ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মাজাহারুল হক আসলাম মাথা ভেদ করে চলে যায়। আসলাম ঢলে পড়ে কলাভবনের উত্তর করিডোরের উপর। মাথার মগজ বেরিয়ে আসে ততক্ষনাৎ। ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসে তাজা লাল রক্ত। আসলামের সহযোদ্ধারা দৌড়ে গিয়ে তাকে পাঁজাকোলা করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ঘাতকেরা তাতেও বাধা দেয় এবং গুলি বর্ষণ করে তাড়িয়ে দেয়। প্রায় ২০/ ২৫ মিনিট পর আসলামের দেহ উদ্ধার করে সহযোদ্ধারা পিজি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে আসলামের জীবন প্রদীভ নিভে যায়। তাকে বাঁচানোর সকল চেষ্টাই ব্যর্থ।

মাজাহারুল হক আসলাম জন্মেছিলেন ১৯৬৬ সালের ১৪ আগস্ট। কেরানীগঞ্জ থানার রুহিতপুর ইউনিয়নের কামরাতা গ্রামে। তার বাবা মোজাম্মেল হক। আসলাম ছিলেন ৩ বোনের একমাত্র ভাই। স্কুল জীবন থেকে আসলাম ছিলেন শান্ত-সভ্য ও সদালাপী। পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে। তারপর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পড়াশুনা শেষ করে রুহিতপুর হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৮৫ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন।

১৯৮৫ সালের শেষের ঢাকার মিরপুরে সপরিবারের চলে আসেন। আসলাম এই সময় নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তার সাথে পরিচয় হয় নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদের সাথে। আসলাম ধীরে ধীরে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হয়ে যান। তিনি মিরপুরের মণিপুর এলাকার ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত হন। সে তার কলেজেও সাংগঠনিক তৎপরতায় যুক্ত ছিল।

গভীর বেদনা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker