বাংলাদেশরাজধানীরাজনীতি

হকার সমাবেশে পুলিশি বাধা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ে স্মারকলিপি প্রদান

বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং বেলা ১২টা থেকে ফুটপাতের এক তৃতীয়াংশে বসতে দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যেগে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বায়তুল মোকাররম লিংক রোডে হাজার হাজার হকার সমবেত হলে সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল গুলিস্তান-গোলাপ শাহ মাজার পল্টন-প্রেসক্লাব হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে অগ্রসর হলে হাইকোর্টের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। হকার-পুলিশ ধাক্কা-ধাক্কির এক পর্যায়ে হকাররা হাইকোর্টের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবির।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। সমাবেশে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, শহিদুল ইসলাম, আহম্মদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক গোলাপ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ খান, বিউটি আক্তার, মিজানুর রহমান, সামিরুল ইসলাম, শাহিনা আক্তার, কনক প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম আপনার সরকারের আমলে হকারদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন-চাঁদাবাজি-উচ্ছেদ অভিযান হবে না। সেই আন্তরিকতাও আমরা দেখেছি। ১৯৯৩ সালের ২০ আগস্ট ঐতিহাসিক মানিক মিয়া এভিনিউ বিশাল জনসভায় আপনি তৎকালীন সরকারকে হকার উচ্ছেদ না করার হুঁশিয়ারি দেন। সরকার বাধ্য হয় পিছু হঠতে। গত ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ইসলামের তান্ডবে হকারদের মালামাল আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পল্টন-বাইতুল মোকাররম-গুলিস্তান-মতিঝিল হকারদের আপনার নিজের হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক দিয়ে তাদের নতুন পুঁজির ব্যবস্থা করেছিলেন। হকার সমস্যা নিরসনের জন্য ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল একনেকের সভায় আপনি সিটি কর্পোরেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নজির অনুসরণ করতে। যাতে হকারদের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আপনার এই ঘোষণায় আমরা আশাবাদী হলেও অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার নির্দেশনা না মেনে হকারদের উচ্ছেদ শুরু করে। তাই আপনার শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন বিশাল মিছিলসহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (নগরভবন) ঘেরাও করে। সেখান থেকে একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় মেয়র মহোদয়ের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। মেয়র মহোদয়ও আন্তরিকতার সাথে স্মারকলিপি গ্রহণ করে হকার নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন এবং এই সমস্যা সমাধানের পথ খোজার কথা বলেন। হকার্স ইউনিয়নের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৮ এপ্রিল ২০১৯ গোল টেবিল বৈঠকে মেয়র মহোদয়ের পরামর্শে সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার, রাজউক চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা বা তাঁদের কোনো প্রতিনিধি গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত হননি। গত ১১ এপ্রিল হকার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে প্রায় ১০ হাজার হকারের মিছিলসহ নগরভবন ঘেরাও করা হয় এবং নেতৃবৃন্দ মেয়র মহোদয়ের সাথে বৈঠক করতে যান। কিন্তু মেয়র মহোদয় নগরভবনে ছিলেন না বলে জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন পাঁচ বছর মেয়াদী হকার পুনর্বাসন মহাপরিকল্পনার কথা বলেছে। ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য স্বল্প মেয়াদে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দুই ধাপে অগ্রসর হতে হবে। তবে তারো আগে প্রকৃত হকারদের তালিকাভুক্ত করে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে। এটাই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজের সফলতার উপর নির্ভর করবে গোটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সফলতা। পথ বিক্রেতা সুরক্ষা আইন করে তালিকাভুক্ত হকারদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ নিয়ে সেটার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি যুক্ত করে স্থায়ীভাবে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়। ভারতে হকারদের জন্য করা ২০১৪ সালের আইন আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী স্বল্প মেয়াদে স্থান নির্দিষ্ট করে তাদের ধীরে ধীরে ফুটপাত থেকে স্থানান্তর করা যেতে পারে। কিন্তু এইপথে সিটি কর্পোরেশন হাঁটতে চাচ্ছে না।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস আসন্ন, হকাররা যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে দু-মুঠো খেয়ে পরে বাঁচতে পারে, ঈদ করতে পারে এই মানবিক দিক বিবেচনা করে বিকল্প কর্মসংস্থানের পূর্ব পর্যন্ত বেলা ১২টা থেকে ফুটপাথের এক তৃতীয়াংশে বসতে দেওয়ার জন্য এবং উপরে উল্লেখিত প্রস্তাবনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য আপনার আন্তরিক ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্মারকলিপি পাট করার পর কয়েক হাজার হকার হাত তুলে দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
সমাবেশ থেকে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker