খেলাধুলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের টানা তিন হার বাংলাদেশের কাছে !!!!!

বোলাররা তৈরি করে দিয়েছিলেন মঞ্চ। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমানের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন পারল না ডানা মেলতে। আগের ম্যাচের মতো ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের শুরুটা হলো দারুণ। সৌম্য সরকার ও মুশফিকুর রহিম পেলেন ফিফটি। তাতে উইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিল টাইগাররা।

সোমবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪৭ রান করেছিল উইন্ডিজ। জবাবে ১৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

এই জয়ে সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত হলো টাইগারদের। আগেই ফাইনাল নিশ্চিত ছিল উইন্ডিজের। ফলে আয়ারল্যান্ডের সব আশা শেষ হয়ে গেল। বুধবার বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটি এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতার।

এ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ তিন ম্যাচের সব কটিতে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। গেল বছর উইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ ও বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া সিরিজ হিসেব করলে ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় মাশরাফীর দলের।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার দারুণ শুরু এনে দলকে। উদ্বোধনী জুটিতে ৮.৪ ওভারে দুজন যোগ করেন ৫৪ রান। অ্যাশলে নার্সের বলে তামিম পরাস্ত হলে দুজনের জুটি ভাঙে। ২৩ বলে ৪ চারে ২১ রান করেন তামিম।

তবে সৌম্য সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন। ৬৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৪ রান করেন এই বাঁ-হাতি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার নবম ফিফটি।

তামিম ফেরার পর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি হয় সৌম্যর। আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া সাকিব এদিনও দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নার্সের বলেই দুজন ফিরেছেন।

২১তম ওভারে এক বলের ব্যবধানে সাকিব ও সৌম্যকে ফেরান নার্স। ৩৫ বলে ৩ চারে ২৯ রান করেন সাকিব। এর আগে বল হাতেও দারুণ বোলিং করেছেন। কৃপণ বোলিংয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট।

সাকিব ও সৌম্যকে ফিরিয়ে উইন্ডিজ ম্যাচে ফেরার আভাস দিলেও মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন দলকে ফের কক্ষপথে আনেন। মিঠুন ৫৩ বলে ৪৩ রান করেছেন ২টি করে চার ও ছক্কায়। হোল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ পঞ্চম উইকেট জুটি বাংলাদেশকে নিয়ে যায় জয়ের কাছে। দুজনে যোগ করেন ঠিক ৫০ রান। মুশফিক ধৈর্য হারা হয়ে ফিরেছেন জয় থেকে ঠিক ৮ রান দূরে থাকতে।

তবে ক্যারিয়ারের ৩৩তম ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। ৭৩ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৬৩ রান।

সাব্বিরকে নিয়ে বাকি কাজ সেরেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সাব্বির অবশ্য স্ট্রাইক নেওয়ার সুযোগই পাননি।

এর আগে বোলিংয়ের গল্পটার মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। সংখ্যার কথা বিবেচনা করলে হয়তো মোস্তাফিজ এগিয়ে থাকবেন। ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে মাশরাফী নিয়েছেন ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট।

সুনীল আমব্রিসকে ফিরিয়ে উইকেট উৎসব শুরু করেন মাশরাফী। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজের আঘাতে ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। তবে শাই হোপ ও জেসন হোল্ডারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল উইন্ডিজ। ঠিক সেই সময় দুজনকেই ফিরিয়েছেন মাশরাফী।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া হোপ এদিন ৮৭ রান করেছেন। ১০৮ বলের ইনিংসে ৬টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ১ ছক্কা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে হোল্ডারের ব্যাট থেকে।

ছন্দ হারিয়েছেন বলে মোস্তাফিজকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। এদিন যা উড়িয়ে দিয়েছেন কাটার মাস্টার নিজেই। ৯ ওভার বল করে ৪ উইকেট নিতে তিনি খরচ করেন ৪৩ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কারও হাতে ওঠেছে তার।

সুত্রঃ দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker