Featuredজীবনযাত্রা

বাবাকে অনেকেই বলেছিল আমাকে বিক্রি করে দিতে !!!

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিৎ। আসল নাম সুজিৎ শর্মা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের আদুখালি গ্রামের প্রান্তিক কৃষকের সন্তান তিনি। ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ব্যাংকে চাকরি করবেন।

৪ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ছোট হলে আদরের হয় সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জিৎকে সবাই বোঝাই মনে করেছিল। শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। দুই পা ছোট এবং বাকা হওয়ায় স্বাভাবিক মানুষের মতো হাঁটতে পারেন না তিনি। বাড়িতে সবচেয়ে বেশি আদর পান বাবার। বাবাই তাকে কোলে করে স্কুল কলেজে নিয়ে এসেছেন সবসময়। কিন্তু বাবারও বয়স হয়েছে। তাই ছেলেকে অটোরিকশায় করে ২০ কিলোমিটার দূর শহরে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়াশুনা করতে পাঠান তিনি।

সুজিৎ শর্মার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা মনোরঞ্জন শর্মা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করেছেন। যেহেতু তাদের নিজস্ব জমি না তাই মালিককে ধানের ৫০ শতাংশ দিতে হবে। তা দেয়া হয়ে গেলেও বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ১০৪০ টাকায় ধান বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। ফলে বেশ অর্থকষ্টে আছে তার পরিবার।

সুজিৎ শর্মা বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ব্যাংকার হয়ে তিনি তার বাবা মা ও ভাইদের খুশি রাখতে চান। তাছাড়া তিনি ব্যাংকার হয়ে তার অর্থের কিছু অংশ তার মতোই প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যয় করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

সুজিৎ শর্মা বলেন, আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন বাবাকে অনেকেই বলেছিল আমাকে বিক্রি করে দিতে। একজন ২০ হাজার টাকায় কিনতেও এসেছিলেন। কিন্তু আমার বাবা দেননি। বলেছিলেন, কষ্ট করে হলেও ছেলেকে বড় করব। তিনিই আজ আমাদের এত দূর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।

সুজিৎ বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েছি বলে কোনো আফসোস নেই। শুধু নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চাই। সমাজসেবা অধিদফতর থেকে যে ভাতা দেয়া হয় তা অত্যন্ত কম। সেটা দিয়ে আমার পড়াশুনা চালানো সম্ভব না। বর্তমানে তৃতীয় বর্ষে উঠেছি কিন্তু নতুন বই কিনতে পারছি না।

সূত্রঃ Breaking 24 News

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button

Blocker Detected

Please Remove your browser ads blocker